মেয়াদ শেষ, দায়িত্ব ছাড়তে রাজি নন মেয়র শাহাদাত
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে রোববার। তবে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করছেন না বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। তাঁর দাবি, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ রয়েছে।
এদিকে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ডা. শাহাদাত থাকবেন নাকি প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে রোববার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মেয়র হিসেবে আজ সোমবারও নগরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন শাহাদাত হোসেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায়ে মেয়র পদে বসেছেন তিনি। মেয়াদ শেষে দায়িত্ব পালন করতেও আদালতের মতামতের প্রয়োজন হবে।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে ওই পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে রোববার। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দেশের অন্য সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে রেজাউলকেও অপসারণ করা হয়। মেয়র শাহাদাত দাবি করেন, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত রেজাউল করিমের মেয়াদকালকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং তাঁকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দেন। আদালতের আদেশে আমাকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
রোববার দুপুরে নগরের হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত জানান, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তিনি ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র পদে থাকার আইনগত সুযোগ রাখেন। তবে তিনি একটি ‘ক্রেডিবল, ফেয়ার, ট্রান্সপারেন্ট’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন চান এবং তপশিল ঘোষণা হলে দল তাঁকে প্রার্থী করলে পদত্যাগ করে নির্বাচনী মাঠে নামবেন।
তিনি বলেন, প্রশাসককে বদলি করে আমাকে মেয়র দেওয়া হয়েছে। কাজেই মেয়রের পরে আর প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। এখন আমি যদি চাই আদালতের আদেশ অনুযায়ী দায়িত্বে থাকতে পারি। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার সংশোধিত আইন অনুযায়ী মেয়াদ পূর্ণ হলে মেয়রের দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। তবে বর্তমান মেয়র যেহেতু আদালতে রায়ে চেয়ারে বসেছেন, সেহেতু আইনের কোনো ধারা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হলে, আদালতের মতামত নেওয়া যেতে পারে।






