পৃথিবীর কোথায় কোথায় শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি মর্যাদা পান, কোথায় পান না

আজিজুর রহমান
আজিজুর রহমান,
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট: ০১:১৪ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৮

আপনি যদি শিক্ষক হিসাবে ক্লাসরুমে সম্মান এবং মর্যাদা পেতে চান, তাহলে আপনাকে চীন, মালয়েশিয়া বা তাইওয়ানে যেতে হবে।

আন্তর্জাতিক এক সমীক্ষা বলছে, এই তিনটি দেশে শিক্ষকদের সর্বাধিক মর্যাদা দেওয়া হয়।

শিক্ষক হিসাবে মর্যাদা পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম যে সব দেশে তার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, ইসরায়েল এবং ইটালি।

ব্রিটেন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইকোনোমকি এবং সোশ্যাল রিসার্চ ৩৫টি দেশে ৩৫,০০০ মানুষের ওপর এক গবেষণা চালিয়ে যে “শিক্ষক মর্যাদা সূচক” প্রকাশ করেছে, তাতে এই চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

ব্রিটেনে শিক্ষকের মর্যাদা সূচকের মাঝমাঝি জায়গায়। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জার্মানির চেয়ে ওপরে।

চীন তালিকার সবচেয়ে ওপরে। চীনের ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে এই গড় ৩৫ শতাংশ।
সম্মান করার সংস্কৃতি

ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকায় শিক্ষকদের সম্মান দেওয়ার ইস্যু ততটা গুরুত্ব পায়না যতটা পায় এশিয়ায়।

বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা মালয়েশিয়ায় শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা অনেক ওপরে।

এবং আন্তর্জাতিকভাবে যে সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হয়, সেখানে এই দেশের ছাত্র-ছাত্রীরাই সবচেয়ে ভালো করছে।

তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, মর্যাদা রয়েছে বলে ভালো শিক্ষক পাওয়া এবং ধরে রাখাও সহজ হয় এসব দেশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, চীন, ভারত বা গানায় এখনও পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের শিক্ষক হতে উৎসাহিত করে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বা ব্রিটেনে বাবা-মায়েরা চাননা তাদের সন্তানরা শিক্ষকতায় ঢুকুক।

ভার্কি ফাউন্ডেশন নামে যে দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি এই গবেষণায় পয়সা জুগিয়েছে, সেটির প্রতিষ্ঠাতা সানি ভার্কি বলেন, “এই গবেষণায় একটি প্রচলিত বিশ্বাস প্রমাণিত হলো যে যেসব সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা বেশি, সেখানে শিক্ষার্থীরা ভালো শিক্ষা পায়।”

“কোনো সন্দেহ ছাড়াই আমরা এখন বলতে পারি, শিক্ষককে মর্যাদা করা কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটা কোনো দেশের শিক্ষার মানের জন্য জরুরী।”

শিক্ষকরা সবেচেয়ে বেশি মর্যাদা পান এমন শীর্ষ ১০টি দেশে :

১ চীন ২. মালয়েশিয়া ৩. তাইওয়ান ৪. রাশিয়া ৫. ইন্দোনেশিয়া ৫. দক্ষিণ কোরিয়া

৭. তুরস্ক. ৮. ভারত. ৯. নিউজিল্যান্ড ১০. সিঙ্গাপুর

সৌজন্যেঃ বিবিসি

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)